অনুচ্ছেদ রচনা : জাতীয় স্মৃতিসৌধ

জাতীয় স্মৃতিসৌধ

জাতীয় স্মৃতিসৌধ 

অথবা, জাতীয় স্মৃতিসৌধ: স্বাধীনতার প্রতীক ও বীর শহিদদের স্মারক

জাতীয় স্মৃতিসৌধ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহিদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মিতি একটি স্মারক স্থাপনা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণার মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে শুরু হয় আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ। ৩০ লাখ শহিদের রক্তের বিনিময় ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় বাংলাদেশের বীর বাঙালির বিজয়। জাতীয় স্মৃতিসৌধ সার্বভৌম বাংলাদেশের দুঃসাহসী বাঙালির বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ের স্মরণে নির্মিত এবং মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের প্রতি জাতির শ্রদ্ধার উজ্জ্বল নিদর্শন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। ১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বিজয়দিবসে রাষ্ট্রপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকা শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে ঢাকা- আরিচা মহাসড়কের পাশে সাভারের নবীনগরে এই স্মৃতিসৌধের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করনে। সৈয়দ মাইনুল হোসেন প্রণীত নকশায় মূল স্মৃতিসৌধের নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯৭৯ সালে এবং ১৯৮২ সালে বিজয়দিবসের আগে কাজ সমাপ্ত হয়। এই স্মৃতিসৌধ বাংলাদেশের সব দেশপ্রেমিক এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বিজয় ও সাফল্যের প্রতীক। সাতটি ত্রিভুজ আকৃতির মিনারের মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের সাতটি পর্যায়ের প্রতিটি এক একটি ভাবব্যঞ্জনায় প্রতিকী প্রকাশ ফুটে উঠেছে। ৪৫ মিটার উঁচু এর সর্বোচ্চ মিনারটি জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিন্দুতে অবস্থিত। মিনার ঘিরে আছে কৃত্রিম হ্রদ এবং বাগান। স্মৃতিসৌধের চত্বরে আছে মাতৃভূমির জন্য জীবন দেওয়া অজ্ঞাতনামা শহিদদের দশটি গণকবর। প্রধান প্রবেশপথ দিয়ে প্রবেশ করলে স্মৃতিমিনারটি প্রবেশ দ্বারের অক্ষ বরাবর চোখে পড়ে, কিন্তু মূল প্ল্যাটফর্মে পৌঁছাতে বেশকিছু উঁচু-নিচু এলাকা, পেভমেন্ট ও কৃত্রিম লেকের উপর নির্মিত সেতু পার হয়ে যেতে হয়। এ সবকিছুই আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামকে নির্দেশ করে। জাতীয় স্মৃতিসৌধ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের মহান শহিদদের অসামান্য ত্যাগ ও শৌর্যের স্মৃতি হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url