বাংলা রচনা : স্বাস্থ্যই সম্পদ

স্বাস্থ্যই সম্পদ

স্বাস্থ্যই সম্পদ

ভূমিকা : কথায় বলে স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। স্বাস্থ্য ভালো না থাকলে সংসারে কোনো কিছুই ভালো লাগে না। সেজন্য স্বাস্থ্যকে বলা হয় সম্পদ। স্বাস্থ্য বলতে সুন্দর কাজরে উপযোগী শরীর বোঝায়। কোনো অসুখ নেই এমন লোকই স্বাস্থ্যের অধিকারী। মোটা লোক হলেই স্বাস্থ্য ভালো আছে এমন ধারণা ঠিক নয়। বরং হালকা শরীরে শক্তি ও কাজ করার যোগ্যতা থাকলে তাকে স্বাস্থ্যবান বলা যায় ।

অনেকের প্রচুর টাকা থাকে। সে বড় লোক। কিন্তু তার শরীর ভালো নয়। অসুখ লেগেই থাকে। সে বড় লোক হলেও সুখী নয়। স্বাস্থ্য ভালো না থাকাই সুখী না হওয়ার কারণ। সেজন্য সব মানুষকে ভালো স্বাস্থ্যের জন্য চেষ্টা করতে হবে।

সুস্বাস্থ্যের প্রয়োজন কেন : সংসারে মানুষ এসেছে কাজের দায়িত্ব নিয়ে। তাকে সবসময় কাজের মধ্যে থাকতে হয়। কাজ করার জন্য দরকার ভালো স্বাস্থ্যের। কাজে শক্তির দরকার। শক্তি না থাকলে পরিশ্রম করা যায় না। আর পরিশ্রম না করলে জীবনের উন্নতি নেই। তাই স্বাস্থ্যের দরকার খুব বেশি । ভালো স্বাস্থ্যের লোক অনেক বেশি পরিশ্রম করতে পারে বলে উন্নতি করতে পারে। আবার স্বাস্থ্য ভালো না থাকলে পরিশ্রমের কোনো সুযোগ নেই বলে উন্নতি করতে পারে না। বলা হয় সুস্থ দেহে সুস্থ মন বিরাজ করে। যার শরীর ভালো তার মনও ভালো। মন ভালো থাকলে জীবনে সুখ থাকে। এ কারণেও স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হবে। স্বাস্থ্য ভালো থাকলে যেমন বেশি পরিশ্রম করা যায়, তেমনি উন্নত চিন্তা, বিচারক্ষমতা, প্রবল স্মৃতিশক্তির অধিকারী হওয়া যায়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা বা দেশের স্বাধীনতার জন্য ভালো স্বাস্থ্যের দরকার।

স্বাস্থ্যহীনতার পরিণাম : স্বাস্থ্য ভালো না থাকলে জীবনের কোনো মূল্য নেই। স্বাস্থ্যহীন লোক কোনো কাজ-কর্ম করতে পারে না। বরং সে নিজেই পরের ওপর নির্ভর করে। স্বাস্থ্যহীন লোক ভালোভাবে চলাফেরা করতে পারে না। অসুখ তাকে পঙ্গু করে ফেলে। তখন তার আর কোনো কাজ করার থাকে না। এমন কি স্বাস্থ্যহীন লোক জীবনে কোনো আনন্দ পায় না। তার সঙ্গীসাথী কাছে আসে না। কোনো কাজে তার ডাক পড়ে না । ফলে দুঃখভরা জীবন কাটানো ছাড়া তার কোনো উপায় থাকে না। স্বাস্থ্যহীন লোকের জন্য জাতি অচল হয়ে পড়ে।

স্বাস্থ্যরক্ষার উপায় : শরীর ভালো রাখার জন্য মানুষকে কিছু নিয়ম পালন করা দরকার। শরীরের যত্ন নিয়ে সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা সবার কর্তব্য। এর জন্য প্রত্যেকের স্বাস্থ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞান থাকতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা স্বাস্থ্যরক্ষার প্রধান উপায়। নিজের শরীর পরিষ্কার রাখা এবং সেই সঙ্গে পরিবেশের সবকিছু পরিষ্কার রাখা দরকার। স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। বেশি খাওয়া মেযন খারাপ কম খাওয়াও তেমনি ক্ষতির। খেলাধুলা, বেড়ানো, ব্যায়াম করা এবং নিয়মিত ঘুমানো স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয়। মন দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত রাখতে হবে। আনন্দময় পরিবেশ বজায় রাখাও দরকার। কি করে স্বাস্থ্য ভালো রাখা যায় সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। অসুখ-বিসুখ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

উপসংহার : স্বাস্থ্য সম্পর্কে আমাদের দেশের লোকেরা অজ্ঞ । অশিক্ষা ও দারিদ্র এর কারণ। এই স্বাস্থ্য সমস্যা দূর করার জন্য বিশেষ শিক্ষার ব্যবস্থা করা দরকার । ছোটবেলা থেকে স্বাস্থ্য সম্পর্কে ধারণা গড়ে উঠলে ভবিষ্যতে তা মঙ্গলের কারণ হবে। এ ব্যাপারে বাড়িতে অভিভাবক ও বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের তৎপর হতে হবে । জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে জ্ঞান দিতে হবে এবং দেশে চিকিৎসা সুবিধা বাড়াতে হবে। সুস্থ জাতি উন্নতির সহায়ক একথা মনে রাখতে হবে ।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url