বাংলা রচনা : বিদায় হজ

বিদায় হজ

বিদায় হজ
অথবা, মহানবি (সা.)-এর শেষ ভাষণ

সংকেত : সূচনা; সময়; বক্তব্য; চারটি বিশেষ কারণ; উপসংহার। ]

সূচনা: ইসলামের সর্বশেষ নবি হযরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর জীবনে শেষ হজ পালনের সময় যে ভাষণ দিয়েছিলেন তা বিদায় হজ নামে পরিচিত। হযরত মুহাম্মদ (স.)- এর জীবনে এটাই শেষ হজ বলে এ সময়ের ভাষণে তিনি সমবেত জনগণের উদ্দেশ্যে কথাগুলো মুসলমানদের জন্য অনুসরণীয় হয়ে আসছে।

সময়: বিদায় হজ অনুষ্ঠিত হয়েছিল দশম হিজরিতে। সে বছরের জিলহজ মাসে হজ অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু রাসুল (স) জিলক্বদ মাস থেকেই এর জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। ইতোমধ্যে ইসলাম ধর্ম অনেকখানি প্রচারিত হয়েছে। বহুলোক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। হাজার হাজার মানুষ নবিজি (স)-এর সঙ্গে যোগ দিয়েছেন হজ পালনের জন্য। প্রায় দুই লক্ষ মানুষ হজ করার জন্য মক্কার আরাফাত ময়দানে সমবেত হন। আরাফাত মাঠের পাশে জাবালে রহমত নামক পাহাড়ে দাঁড়িয়ে রাসুল (সা.) সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে বিদায় হজের ভাষণ প্রদান করেন।

বক্তব্য: ভাষণটি ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমে তিনি আল্লাহর প্রশংসা করেন। তিনি দিনটির বিশেষ পবিত্রতা ও গুরুত্বের কথা বললেন। তারপর তিনি ইসলাম ধর্মের কয়েকটি মূল বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেন। মানুষে- মানুষে কোনো ভেদাভেদ নেই সে কথা ঘোষণা করলেন। মুসলমানরা পরস্পর ভাই ভাই এ কথা মনে রাখতে হবে। নারী-পুরুষের সমঅধিকার স্বীকার করতে হবে। সকল প্রকার সুদ ও ঘুষ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। মানুষ নিজের কাজের জন্য নিজেই দায়ী। একজনের অপরাধের জন্য অপরজনকে দায়ী করা যাবে না। ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে রাসুল (সা.) নিষেধ করেছেন। অন্য ধর্মের প্রতি সহনশীল হতে হবে। মুসলমানরা যাতে সত্যিকারভাবে আল্লাহ্র অনুগত মানুষ হতে পারে সে জন্য নানা উপদেশ দিলেন। 

চারটি বিশেষ কথা: রাসুল (সা.) মানুষের অনুসরণের জন্য চারটি বিশেষ কথা বললেন। 

১. আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও এবাদত কোরো না; 
২. অন্যায়ভাবে মানুষকে হত্যা কোরে না; 
৩. পরের সম্পদ আত্মসাৎ করো না; 
৪. কারও ওপর অত্যাচার কোরে না। 

তারপর তিনি কোরআন ও হাদিসের কথা বলেন। মানুষের পথ প্রদর্শনের জন্য এ দুটি রেখে গেছেন ।

উপসংহার: রাসুল সে এই বিদায় হজের ভাষণটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম ধর্মে কিছু কথা বলে তিনি যে নিজের দায়িত্ব শেষ করেছেন সে কথা এখানে ব্যক্ত হয়েছে। আল্লাহ্র মনোনীত ধর্মের প্রতি মানুষকে আকর্ষণ করার যে দায়িত্ব তিনি নিয়ে এসেছিলেন তা এখানে পরিপূর্ণতা লাভ করল। মুসলমানদের কাছে তাই বিদায় হজের ভাষণটি বিশেষ গুরুত্বের অধিকারী বলে বিবেচনার যোগ্য ।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url