বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তার বন্ধুর কাছে একটি পত্র লেখ

বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তার কাছে একটি পত্র লেখ


মনে কর তােমার নাম দুরন্ত। তােমার বন্ধু নাম রাহুল। সে খুলনায় থাকে। বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তার কাছে একটি পত্র লেখ।

পল্লবী,ঢাকা   
২৩.০১.২০১৮ 
প্রিয় রাহুল 
আমার শুভেচ্ছা নিও। অনেক দিন হলাে তােমার কোনাে খবর পাই না। আশা করি ভালাে আছ। গতদিন আমাদের স্কুলে ‘বৃক্ষরােপণের প্রয়ােজনীয়তা' বিষয়ে একটি সেমিনার হয়ে গেল। সেই সেমিনারেই বৃক্ষরােপণের গুরুত্ব সম্পর্কে অনেক ভালাে ভালাে কথা শুনলাম। তােমাকে সেগুলাে জানাতেই এ চিঠি লিখতে বসেছি।

তুমি তাে জানাে, গাছ আমাদের পরম বন্ধু। আমরা শ্বাস-প্রশ্বাসে অক্সিজেন গ্রহণ করি, কার্বন-ডাইঅক্সাইড ত্যাগ করি। আর গাছ আমাদের প্রয়ােজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং বিষাক্ত কার্বন-ডাই-অক্সাইড শশাষণ করে নেয়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। কিন্তু মানুষ তার প্রয়ােজনে প্রচুর গাছ কাটছে। বন উজাড় হচ্ছে। তাতে প্রকৃতি ও পরিবেশের ভীষণ ক্ষতি হচ্ছে।

তুমি হয়তাে জানাে না, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য একটি দেশের মূল ভূ-খণ্ডের কমপক্ষে পঁচিশ ভাগ বন থাকা দরকার। আমাদের দেশে তা নেই। বরং যা আছে তা-ও নির্বিচারে ধ্বংস করা হচ্ছে। সভ্যতা ও উন্নয়নের ফলে সৃষ্টি হচ্ছে কলকারখানা। রাস্তায় যানবাহনের চলাচল বাড়ছে। কলকারখানা ও গাড়ির ধোঁয়ায় বাতাসে বাড়ছে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ। ক্ষয় হচ্ছে বাতাসের ওজন স্তর। সৃষ্টি হচ্ছে গ্রিনহাউজ অ্যাফেক্ট। ফলে মানুষের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে। দেখা দিচ্ছে নানা রােগ-ব্যাধি। এসবই ঘটছে বাতাসে অক্সিজেনের অভাবের কারণে। তাই বেশি বেশি গাছ লাগালে বাতাসে অক্সিজেনের ঘাটতি পূরণ হবে। প্রকৃতির ভারসাম্য ফিরে আসবে। পরিবেশ দূষণমুক্ত হবে। তা ছাড়া আমাদের জ্বালানির চাহিদার বেশির ভাগ পূরণ হয় বৃক্ষের মাধ্যমে। কাঠ থেকে আমরা বাড়িঘর এবং আমাদের প্রয়ােজনীয় আসবাবপত্র প্রস্তুত করে থাকি। সুতরাং ভবিষ্যতের কথা ভেবে এখনই আমাদের অধিক হারে বৃক্ষরােপণ করা প্রয়ােজন। বাড়ির চারপাশে, রাস্তার দুপাশে, পতিত জমিতে প্রচুর পরিমাণে গাছ লাগাতে হবে। বৃক্ষরােপণের প্রয়ােজনীয়তা সম্পর্কে জনগণকে আরও সচেতন করে তুলতে হবে। মনে রাখতে হবে, বৃক্ষ বাঁচলে আমরা বাচব। 

আজ এই পর্যন্তই। তােমার মা-বাবাকে আমার শ্রদ্ধা জানিও। চিঠি দিও।                                               

ইতি    
তােমার বন্ধু
দুরন্ত   
✱ পেত্র লেখা শেষে খাম এঁকে খামের ওপরে ঠিকানা লিখতে হয়।
Next Post Previous Post
7 Comments
  • Unknown
    Unknown ২৬ মার্চ

    খুব ভাল লিখেছেন

    • Hasibul
      Hasibul ১৯ নভেম্বর

      আপনার ভালো লেগেছে জেনে খুশি হলাম।

  • Unknown
    Unknown ২২ নভেম্বর

    সুন্দর হয়েছে। কিন্তু অনেক বড়।যা আমার ব্রেইন ধারণ করতে পারছে না।😊

    • Hasibul
      Hasibul ২২ নভেম্বর

      আপনার ভালো লেগেছে জেনে খুশি হলাম।

  • Unknown
    Unknown ২১ মার্চ

    DhonnoBad!❤️

  • freeaffiliaeco
    freeaffiliaeco ০৯ এপ্রিল

    Fine

  • Unknown
    Unknown ১৩ এপ্রিল

    কোন বিষয় লেখতে পারি বা না পারি কিন্তু নিজের বাংলা ভাষা একটু বেশি পড়তে এবং লিখতে পারি 🥰🥰

Add Comment
comment url